Header Ads

শিশির বিন্দু দ্বিতীয় পর্ব

                              


 শিশির বিন্দু
                       এসকেএইচ সৌরভ হালদার
                                  দ্বিতীয় পর্ব

আজ বিকালে ,আমি আমাদের বাড়ির  দক্ষিণ দিকে ঘুরতে বেরিয়েছিলাম। চারিদিকে শুকনো ঘাস অথবা কাঁচা ঘাস মিশে যদি একাকার না হতো তাহলে হয়তো বোঝা যেত না যে শিশিরবিন্দুর অংশটা ভিন্ন ভিন্ন অংশে কিভাবে বিভক্ত হয়। যতটা না শিশির ততটা নয় বিন্দু।একটা মুহূর্তের ভিতর,শুধু উড়াল দিতে চাই দুটো মন আমার হৃদয়ের শিশির বিন্দু। 

এই কথা আমি ভাবতে ভাবতেই হাঁটছিলাম একাকী পথে। দূর থেকে গুনগুন শব্দ এক মুহূর্তে যেন আমার কানে ভেসে আসলো। আমি  বুঝতে পারলাম পরিচিত এক কন্ঠ। সেই কন্ঠ জুড়ে আবৃতি করছিল শিশির বিন্দু কবিতা। কবিতা লেখা আমার ।জানিনা সে কবিতা কোথা থেকে পেয়েছে।
দূর থেকে যখন কাছে গিয়ে আড়াল করে দেখলাম তখন দেখি সে আর কেউ নয় বিন্দু।

শিশির বিন্দু
এসকেএইচ সৌরভ হালদার

সূর্যোদয় ভোর হলে
গগন থেকে নিহির ঝরে
কুঁচি কুঁচি ঘাসের উপর,
বিন্দু বিন্দু জলে
একটি শিশির বিন্দু।

বহুক্ষনে বহু সময় পরে
খুঁজে চলেছি আলোক পথে
ঝরা পাতার জমিন ডাকে,
গুচ্ছ ঘাসে ছড়িয়ে থাকা
একটি শিশির বিন্দু।

এই কবিতাটি আবৃতি করতে করতে বিন্দু আমার দিকে আসছিল। তখন আমি খুবই বিস্মিত হয়ে পড়লাম। মুখে মিষ্টি হাসি, লজ্জিত চোখে দাঁড়িয়ে আছে আমার সামনে,  হৃদয়ের মুগ্ধতার প্রকাশ না করেই পারলাম না। তখন আর দেরি করে নয় কাছে গিয়ে বলেছিলাম জানিনা তুমি কত সুন্দর জানিনা তুমি কে তবে আমি এটুকুই জানি তুমি আমার বিন্দু! শিশিরের বিন্দু। যেটার নাম একে অপরকে না ছাড়া মেলেনা । সেই ভাবেই  হৃদয় মিলনের মাধ্যমে আমি তোমাকে ভালোবাসি।

এই কথা বলায় বিন্দু খুবই লজ্জা বোধ করলো। লজ্জিত এ মনে ওড়না দিয়ে দুই মুখ ঢেকে  লোকাতে চেয়েছিল, আমার থেকে। কি আর করার ,এই সুন্দর ঘাস এই সুন্দরী দুনিয়ার থেকে লুকিয়ে সে আর পালাতে পারে নি।

আকাশের মেঘ করেছিল ।আমার মনে হচ্ছিল বৃষ্টি হবে দূর থেকে দেখা যাচ্ছিল সেই লাল মেঘ আর কাছে থেকে কালো মেঘের সমিরন। মেঘ গুলো এমন ভাবে ছিল বৃষ্টিতে হয়তো এখনি নেমে ছাড়বে। বিন্দু বলল বাড়ি যাবে না বৃষ্টি এসে গেল যে।
এই যাবো তবে অনেকদিন বৃষ্টি আসেনি আর এই বৃষ্টিতে শিশিরবিন্দুর জন্যে এসেছে যেন প্রেমের খেলা খেলে আমাদের ভেজাতে এসে গেছে এই দুনিয়ার মাঝে।

তুমি যে এত রোমান্টিক আমি আগে জানতাম না।সত্যিই তুমি খুব সুন্দর করে কথা বল। যার কোন তুলনাই হয়না।শুধু একটু ভালোবাসার জন্য সুন্দর করে নয় সবার সাথে সুন্দর ভাবে কথা বল ।জানিনা এভাবে তুমি কি করে কথা বলো, কিন্তু তোমার মুগ্ধতা যেন আমার ভালোবাসা হৃদয় স্পর্শ করে।
তাই বুঝি তুমি  কবিতা এটাই লিখেছিলে

বহুক্ষনে বহু সময় পরে
খুঁজে চলেছি আলোক পথে
ঝরা পাতার জমিন ডাকে,
গুচ্ছ ঘাসে ছড়িয়ে থাকা
একটি শিশির বিন্দু।


সময় পেলেই কবিতা লিখি মনের আনন্দে নয় ।নিজের ভালোবাসা মূর্খতা প্রকাশ করতে।অন্যের ভালোবাসা থেকে শিখি এবং দেখি হয়তো কাউকে কোনদিন ভালোবাসিনি ।কিন্তু এখন তোমাকে দেখার পরে ভালোবাসা হারিয়ে গিয়েছি।এইজন্য আমি কল্পনায় রাজ্য ছিলাম একটি শিশিরবিন্দু কে নিয়ে ,বিন্দু কে না দেখতে পেয়ে শিশির একসময় বলতে থাকলো বহু সময় পরে খুঁজে চলেছি আলোর পথে ঝরাপাতার জমিন ডাকে গুচ্ছ ঘাসে ছড়িয়ে থাকা একটি শিশির বিন্দু এটাই আমি কবিতা লিখেছিলাম।


এইজন্য তোমাকে ধন্যবাদ কিন্তু কবিতাটা যেমন সুন্দর তেমনি হয়তো শিশির বিন্দু প্রেমটা সুন্দর। সেটা তো হতেই হবে যেত শিশির।

অনেক কথা বলতে বলতেই অনেক দূর হেঁটে চলেছি আমরা দুজনে 
এমন সময় আকাশে মেঘ ডেকে উঠল বিন্দু ভয় পেয়ে বলল শিশির চলো বাড়ি ফিরে যায় এই মুহূর্তে বৃষ্টিনামলো বলে।

চলো আমরা বাসায় ফিরি।বাড়ি ফেরার আগে থেকে বৃষ্টি যেন ভিজিয়ে দিল আমাদের দুজনকে ।ঠিক সেভাবে যেভাবে শিশির পড়ে আকাশ থেকে বিন্দু ভাসে ঘাসের মাঝে।

বাড়িতে যখন আসলাম।একদম ভেজা অবস্থায়। 


পরের দিন সকালে যখন আমি প্রতিদিনের মত ছাদে এক কাপ কফি নিয়ে ফুলের টপ এ জল দিচ্ছি তখন বিন্দু আমার একটা ঢিল মারলো।

আমি চিৎকার করে উঠলাম ঢিলটা আমার মাথায় লেগেছিল। রক্ত ঝরছিল।যেহেতু দুজনের ছাদ আলাদা হলেও পাশাপাশি থাকায় বিন্দু দেখে ফেলেছিল আমার মাথা থেকে রক্ত ঝরছে এই দেখে বিন্দু অনেক দুঃখ প্রকাশ করল। এবং আমাদের বাড়িতে দৌড়ে চলে আসলো।

তখন আমি ছাদ থেকে নেবে, আমার রুমে গিয়ে মাথায় ব্যান্ডেজ করে নিলাম।এই দেখে মা বলল কি হয়েছে রে কোথায় আবার মারামারি করতে গিয়েছিলে মাথায় ব্যান্ডেজ কিসের জন্য।

ওহো মা আমি ছাদে উঠার সময় ধাক্কা লেগে পড়ে গিয়েছিলাম মেঝেতে।পাশে বিন্দু দাঁড়িয়ে সেটা শুনছিল বিন্দু চোখে তাকিয়ে আমি অনুভব করতে পারলাম বিন্দু খুবই দুঃখ পেয়েছিল।  চোখের দুই মনি ছল ছল করছিল। এমন সময়,